চ্যানেল নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : লক্ষ্য তাড়া করতে মাঠে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় ২৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১৩ রান করে ফার্নান্দোর বলে ক্যাচ আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন ইমন। এরপর দলের হাল ধরেন তানজিদ হাসান। তিনি ৫১ বল খেলে ফিফটি তুলে নেন। কিন্তু তানজিদ আউট হওয়ার সাথে সাথে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ।
বুধবার (২ জুলাই) সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৭ রানের ব্যবধানে হেরে যায় মিরাজ বাহিনী। ২৪৫ রান তাড়া করতে নেমে ৩৫.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানে থেমে যায় টাইগাররা।
পারভেজ ইমন ১৬ বলে ১৩ রান করে বিদায় নিলেও, আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম তুলে নেন ফিফটি। শান্তর সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়ে দলকে এনে দেন শতরানের দোরগোড়ায়। তখনো হাতে ছিল ৮ উইকেট, প্রয়োজন মাত্র ১৪৫ রান ৩৩ ওভারে।
কিন্তু শান্ত ২৬ বলে ২৩ রান করে রান আউট হওয়ার পর যেন ছন্দ হারায় পুরো দল। এরপর মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন ৭ ব্যাটার! হাসারাঙ্গা ও কামিন্দু মেন্ডিসের ঘূর্ণি তোপে একে একে আউট হন লিটন দাস (০), তানজিদ তামিম (৬২), তাওহীদ হৃদয় (১), মিরাজ (০), তানজিম (০), তাসকিন (০)। একসময় যে ম্যাচ জয় সহজ মনে হচ্ছিল, সেটিই হয়ে পড়ে লজ্জার হার।
ব্যাটিং ধসের পর শেষদিকে লড়াইটা একাই চালিয়ে গেলেন জাকের আলী অনিক। শেষ উইকেটে তানভীর ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গী করে হারের ব্যবধান অনেকটা কমিয়ে আনেন তিনি।
৩৬তম ওভারে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৬৪ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৫১ রান করেন জাকের, যা তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি। ধসে পড়া এক ইনিংসে লড়াকু মানসিকতার ছাপ রেখেছেন তিনি।
লঙ্কানদের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসারাঙ্গা। মাত্র ১০ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। আর কামিন্দু মেন্ডিস নিয়েছেন ১৯ রানে ৩ উইকেট। দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং।
এর আগে, দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে অভিজ্ঞ কুশল মেন্ডিস ও চারিথ আসালঙ্কা কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। বিশেষ করে আসালঙ্কা দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
কলম্বোতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৪৪ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। দলের হয়ে একাই লড়েছেন চারিথ আসালঙ্কা। ১০৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু আরেকপ্রান্তে কেউই তাকে দীর্ঘসময় সঙ্গ দিতে পারেননি। ফলে সেঞ্চুরি করেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি আসালঙ্কা। তাসকিন-তানজিমের নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৫০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তাদের রানের চাকা আড়াইশ রানের আগেই আটকে যায়।
টাইগারদের পক্ষে ৪৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। ৪৬ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন তানজিম সাকিব। লঙ্কানদের পক্ষে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেছেন আসালাঙ্কা।
তবে একপ্রান্তে হাল ধরে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন চারিথ আসালাঙ্কা। ষষ্ঠ উইকেটে আসালাঙ্কার সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়েন মিলান রত্নানায়েকে। ২২ রান করে তানজিমের বলে বোল্ড হন তিনি। এরপর তাসকিন ফেরান হাসারাঙ্গা (২২) ও থিকশানাকে (১)। তবুও হাল ছাড়েননি আসালাঙ্কা। ১২৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ১০৬ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি। ইনিংসের শেষ ওভারে তানজিমের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি, আর সেই সঙ্গে শেষ হয় ২৪৪ রানে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me.